লিয়াকত রাজশাহী প্রতিনিধি:রাজশাহীতে ইটভাটা মালিকরা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিন ফসলি জমি ব্যাবহার করে গড়ে তোলা হচ্ছে ইট ভাটা।আরও অভিযোগ রয়েছে ইটের আকারেও ফাঁকি দেয়া হচ্ছে এই সব ইট ভাটায়। নিজেরা লাভবান হতে বিএসটিআই এর নির্দেশনা অমান্য করা হচ্ছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাজশাহীর বিভিন্ন ইটভাটা গুলোতে, তিন ফসলী জমিতে ইটভাটা নির্মাণের বিধি নিষেধ থাকলেও ভাটায়ালারা আইনকে তোয়াক্কা না করে রাজশাহীর আশপাশের এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের ভাটা। মাত্র আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকায় গত কয়েক বছরে নির্মাণ করা হয়েছে অন্তত ৩০টি ইটভাটা।
তিন কিংবা দু’ফসলী জমিতে ইট ভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেনা ইট ভাটা মালিকরা। এছাড়া, প্রতিটি ইটভাটায় সর্বোচ্চ ২ একর জমি ব্যবহারের কথা থাকলেও ভাটা মালিকরা ব্যবহার করছেন আরও অতিরিক্ত জমি।এছাড়া ফসলী জমি থেকে মাটি উত্তোলন করেই তৈরি করা হচ্ছে ইট। এতে ভাটার পাশে সৃষ্টি হচ্ছে গভীর জলাশয়। ফলে হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে।
এদিকে বিএসটিআই থেকে ইট তৈরীর জন্য একটি নির্ধারিত মাপ রয়েছে। প্রত্যেকটি ইটভাটাকে এই নির্ধারিত মাপ অনুসারে ইট তৈরী করতে হবে। বিএসটিআই নির্ধারিত ইটের মাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্য ২৪ সে.মি, প্রস্থ ১১ দশমিক ৫ সে.মি এবং উচ্চতা ৭ সে.মি। তবে দৈর্ঘ্য ৬ মি.মি, প্রস্থে ৫ মি.মি. এবং উচ্চতায় ২ মি.মি. কম-বেশি হতে পারে। কিন্তু ভাটা মালিকরা এই নিয়মও মানছেন না। সব ক্ষেত্রেই তাদের মাপ আরো কম। এমনকি ইটের উপর ভাটার নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম রয়েছে। সেটিও মানা হচ্ছে না।
রাজশাহীর এফবিআর ভাটায় গিয়ে দেখা গেল ভাটায় এখনও সাজানো আছে ইট। সেখান থেকে ইট নিয়ে মেপে দেখা গেল কোনটির মাপই ঠিক নেই। একই দৃশ্য এআরএস, সামাদ, মবিএ ভাটাতেও। এসব ভাটার মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা গণমাধ্যমে কোন কথা বলতে রাজী হয়নি। তবে এসব ভাটার কর্মচারীরা জানিয়েছেন, মালিক যে ফর্মা এনে দেয় তাতেই ইট বানানো হয়। আমরা নিয়ম কানুন জানিনা।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য একধিকবার ফোন করলেও এমএবির মালিক শহিদুল ইসলাম ও এফবিআর এর মালিক ফজলুর রহমান মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে মাত্র অড়াই বা তিন কিলোমিটারের মধ্যে ৩০টি ইট ভাটা কিভাবে গড়ে উঠলো পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র পেলো কিভাবে তা জানতে রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পিরচালক মামুনর রশিদকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।
রাজশাহী ভোক্তা অধিকার অধিদফতর এর উপ-পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। এর আগেও আমরা অভিযান চালিয়েছি। এবার মৌসুমেও অভিযান চালাবো। এছাড়া কেউ নির্দিষ্ট প্রমানসহ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
রাজশাহী বিএসটিআই এর উপ-পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি রাজশাহী বিভাগীর কমিশনার এর নিকট উথস্থাপন করেছি। তিনি এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আগামী দু এক দিনের মধ্যেই এটির বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো। তখন এর মাপ ঠিক না পেলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি।